phire dekha - air siliguri AIR SILIGURI

Go to content

Main menu:

Gallery > Articles
আকাশবাণী শিলিগুড়ি : ফিরে দেখা
কিংশুক সরকার
 
কত অজানাকে জানাইলে তুমি / কত ঘরে দিলে ঠাই,
দূরকে করিলে নিকট বন্ধু / পরকে করিলে ভাই|
 
এভাবেই বেতার বা রেডিও আমাদের সামনে খুলে দিয়েছে অচেনা আর অজানা ভান্ডারকে| ইথার তরঙ্গের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে বিপুলা এ পৃথিবীকে| বেতার রঙ্গ রূপ গন্ধ স্পর্শে ভরা এই জগৎটিকে এনে দিয়ছে আমাদের সামনে| ভারতে বেতার এর যাত্রা শুরু বোম্বেতে All India Radio –র মাধ্যমে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে, ঐ বছরই ২৬শে অগাস্ট কলকাতায়| All India Radio নামটি ১৯৩৬ সালে উদ্ভাবনা করেন Lionel Fielden|
     আর উত্তরবঙ্গের জনজীবনের প্রাণভোমরা সংস্কৃতি চর্চার প্রতিভূ আকাশবাণী শিলিগুড়ির পথচলা শুরু ১৯৬৩ সালের ৭ই জুলাই| তার ৫৩তম জন্মদিন আমরা পেরিয়ে এলাম এই সেদিন|
“জন্মদিন আসে বারে বারে / মনে করা কবে কবে / এ জীবন নিত্যই নুতন
প্রতি প্রাতে আলোকিত পুলকিত দিনের মতন”
জন্মদিন বাড়িয়ে দেয় দায়িত্ব আর মনে করায় সুবার্ণজয়ন্তী অতিক্রান্ত ঐতিজ্যাবাহী একটি প্রতিষ্ঠানের গৌরবমন্ডিত অতীতকে| প্রথমে auxiliary station ছিল আকাশবাণী শিলিগুড়ি| সব আনুষ্ঠানই relay করা হত কলকাতা ও দিল্লি কেন্দ্র থেকে| Troops programme বা জওয়ান ভাইদের জন্য অনুষ্ঠানটি relay হত গুয়াহাটি কেন্দ্র থেকে| অনুরোধের আসরের লিস্ট ও রেকর্ড আসত আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে| আকাশবাণী শিলিগুড়ির প্রথম নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রান্তিক ১৯৬৯ সালে| তখন এটি সাহিত্য সঙ্গীত মিলিয়ে একটি মিশ্র অনুষ্ঠান| ওই সময়কাল গ্রামাফোনে রেকর্ড-এর যেমন যুগ তেমনি রেডিও-রও স্বর্ণযুগ| ৭০এর দশক| এতটাই তখন রেডিও-র প্রভাব যে জনপ্রিয় একটি চলচ্চিত্রে কবিতার মাধ্যমেও উপস্থিত রেডিও –
“তারপর তান্দ্রালাসা গোধুলিতে / রাস্তায় ফুটপাথে / কোনো এক বিডির দোকানে / রেডিও-তে রামধনুগানে ভজনা নিয়ত|”
এমনি অবাধ বিচরণ রেডিও-র পান বিডির দোকান থেকে গৃহস্তের হেঁসেল সর্বত্র|
               
সময় স্রোতের মাঝে স্মৃতি এক ভেসে থাকা ফুল| সেই স্মৃতির সরণী বেয়ে ভেসে আসছে অমলিন সব ছবি| এক যশস্বী ব্যক্তিত্ব বলেছিলেন অল ইন্ডিয়া রেডিও-র ইতিহাস শুধুমাত্র একটি সংগঠনের ইতিহাস নয়, ব্যক্তিরও ইতিহাস| এমন অনেক ব্যক্তিত্ব এই প্রতিষ্ঠানে চাকুরীসুত্রে তাদের অবদানে সমৃদ্ধ করেছেন এই প্রতিষ্ঠানকে| আকাশবাণী শিলিগুড়ি-র প্রথম ঘোষণাটি যিনি করেন তিনি দিলীপ চট্টোপাধ্যায়| আকাশবাণী শিলিগুড়ি-র পরতাম ঘোষক| এরপর একে একে এলেন ঘোষক স্বর্নাকমল চট্টোপাধ্যায় ও দেবীপ্রসাদ পাল চৌধুরী| তারপর পিযুষ ঘটক| অনুষ্ঠান বিভাগের দায়িত্বে সেই সময় Programme Executiveরা| প্রথম Programme Executive এস এল সিনহা| এরপর একে একে বিরেন ধর, ডি কে সিনহা ও তরুণ দত্ত| O.B. অনুষ্ঠানের সূচনা সত্তর দশকে| ৯০ মিনিট-এর originating অনুষ্ঠান ১৯৭৬-এর ১লা জুন – প্রান্তিক|
     সঙ্গীত আকাশবাণীর প্রাণভোমরা| সেই সংগীতের সুরমূর্ছনায় আকাশবাণীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে যারা প্রানবন্ত করে তুলতেন তারা staff artist – ১৯৭৬ থেকে একে একে এলেন তবলায় আনন্দ বোডস, সেতারে সুনীল চক্রবর্তী, এস্রাজে বিকাশ সেন, বাঁশিতে কুমার নিধিনারায়ান, দোতারায় আজিমুদ্দিন মিঁয়া, সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে সুনীল দাশগুপ্ত| এরপর এলেন বাঁশিবাদক প্রভাত বসু| আকাশবাণীর সম্পদ তার লাইব্রেরি| Source of all resources এই লাইব্রেরি যেমন সংগ্রহশালার মধ্য দিয়ে ধরে রাখে আকাশবাণীর গৌরবময় ইতিহাস তেমনি বর্তমান অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গসুন্দর মনোগ্রাহী করে তলর রসদও যোগায় সে| যে লাইব্রেরি-র ভূমিকা এতখানি গুরুত্ত্বপূর্ণ তার কর্ণধার অর্থাৎ লাইব্রেরিয়ান-এর ভূমিকাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ| প্রথম লাইব্রেরিয়ান অবিনাশ রায়| ১৯৭৪ সালে আকাশবাণী শিলিগুড়িতে লাইব্রেরিয়ান হিসাবে যোগ দিলেন জয়শ্রী পাল চৌধুরী, যিনি মনপ্রাণ ঢেলে সাজিয়ে তুললেন লাইব্রেরিকে যার একদিকে রইলো রেকর্ড ও বই অন্যদিকে কারিগরী ব্যাপার| আকাশবাণী শিলিগুড়ির ইতিহাসে মাইলফলক ১৯৮২, যে বছর থেকে আকাশবাণী শিলিগুড়ি উত্তরিত হলো পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্রে| পেল তার প্রথম কেন্দ্র অধিকর্তা অমলেন্দু বিকাশ চৌধুরীকে যিনি তার অসামান্য নেতৃত্বগুণ ও উদ্ভাবনী শক্তিতে আকাশবাণী শিলিগুড়ির চেহারাটাই বদলে দিলেন| একে একে প্রযোজিত হলো জনপ্রিয় সব অনুষ্ঠান – প্রত্যুষা, গ্রামে গঞ্জে, শিশু মহল, মহিলা মজলিস, সাপ্তাহিকী| ষ্টুডিওর বাইরে থেকে প্রথম রেকর্ডিং শিশুমহল ১৯৮৪ সালে
ITI থেকে| কারিগরী দিক দিয়ে উত্তরণ ১৯৮৭তে যখন HPT অর্থাৎ High Power Transmitter-এ উত্তরিত হলো আকাশবাণী শিলিগুড়িএই কেন্দ্রে প্রথম অধীক্ষক অভিয়ন্তা এস পি নাগ ১৯৮৭তেই|
               
এরপর শুধুই যাত্রা যা আসলে জয়যাত্রা| জন্মলগ্ন থেকেই আকাশবাণী শিলিগুড়ির মন্ত্র – বহুজন হিতায় বহুজন সুখায়| তার অনুষ্ঠানসূচী নির্বাচনেও সে উদ্দেশ্যই প্রয়োগ| গত উত্তরবঙ্গের জনজীবনের সাধারণ মানুষের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক জীবনের, সর্বোপরি সুস্থ বিনোদনের আশা আকাঙ্ক্ষা ভরসার প্রতিক আকাশবাণী| তার উদ্দেশ্য ত্রিবিধ –
Education, Information, Entertainment – শিক্ষা, তথ্য আর বিনোদন| বৃহত্তম গণমাধ্যম হিসাবে তার দায় ও দায়িত্ব অনেক| একদিকে যেমন সে তার অনুষ্ঠানের সম্ভার ও বৈচিত্রে পৌঁছে গিয়েছে উত্তরবঙ্গের ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে প্রতিটি ঘরে ঘরে তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ভূমিকম্পে দুর্গত সাধারণ মানুষের পাশে, মাঝ সমুদ্রে জীবিকার সন্ধানে জীবন বিপন্ন করা মত্স্যজীবী ও নাবিকদের কাছেও|জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য করা সেনানীদের কাছেও আকাশবাণী ভরসাস্থল| সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে আকাশবাণীও বিবর্তিত হয়েছে| নিজেকে মেলে ধরেছে Music Concert থেকে Live Phone-In
এ| প্রযুক্তির উত্তরণের সাথে তাল মিলিয়ে উত্তরিত করেছে নিজেকে| বেল থেকে মেল্ট্রন, কেল্ট্রন হয়ে কম্পিউটারএ|
Mono থেকে stereo হয়ে digital এর দিকে| টি কে দাস থেকে শ্রীপদ দাস সব কেন্দ্র অধিকর্তারা তাদের নেতৃত্বগুনের মুন্সিয়ানায় আকাশবাণী শিলিগুড়িকে পৌঁছে দিয়েছেন সাফল্যের সিংহদরজায়|
     উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতির, লুপ্তপ্রায় লোকসংস্কৃতির ধারক বাহক হিসেবে শ্রোতাবন্ধুদের এক সমুদ্র আশার মুর্ত্ত প্রতিক হিসাবে আকাশবাণী শিলিগুড়ির চলা বিরামহীন| চরৈবেতি তার মন্ত্র| বসুধৈব কুটুম্বকম তার বিধেয়| তার চলার পথে ছড়ানো অসংখ্য শুভার্থীর শুভেচ্ছার ফুল| আকাশবাণী শিলিগুড়ির বিস্তারের সীমানা আকাশ, sky is the limit.
 
03/10/2015
web analytics
Back to content | Back to main menu